লজেন্সওয়ালা

তখনও সকাল হয় নি । ভোরের হালকা অন্ধকার । ঠাণ্ডা বাতাস বইছে । বিভিন্ন পাখির কলরব । প্রাণীকুল জাগছে ! গ্রাম্যতা এখনও যায়নি এখানে । শহুরে হাওয়া লাগে নি । দূর পূব আকাশে হালকা আলোর রক্তিম রেখা । এই বুঝি লড়াই চলছে … আলো অন্ধকারের মধ্যে !! কেউ কাউকে জমি ছেড়ে দিতে নারাজ !!

– ওগো শুনছো ??
– আবার কি হল !!!
– বলছিলাম আসার সময় , একটা …
– কি হল !!!
– কিছু না ।
– আহা ! এখুনি তো বলছিলে !!
– বলছিলাম একটা ছাতা নিয়ে আসবে !!! ছেঁড়া ছাতাটাতে…
– তুমি তো জানো শুভা…
– হুম ! জানি ! একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বিছানায় পুচকি তখনও শুয়ে আছে ।
আজ দুই বছর হল তারা এই গ্রামে এসেছে । অমল আলো অন্ধকার পথ বেয়ে এগিয়ে চলেছে । দুইপাশে বাঁশ ঝাড় । বাঁশের পাতায় ভরে আছে পুরো রাস্তা । পায়ের কাছ দিয়ে কিছু যেন একটা সরসরিয়ে বেরিয়ে গেল !! হালকা আলো আঁধারিতে ঠিক বোঝা গেল না । এ নিত্যদিনের ঘটনা ।
অমল ভেবে চলেছে … ছাতা একটা দরকার । ওই ফুটো ছাতা দিয়ে এই বর্ষা পার করা মুশকিল । একটা ছাতার দাম কত ?? বোধহয় পঞ্চাশ টাকা !! কিন্তু … পঞ্চাশ টাকা !! দূরে রেলের বাঁশীর আওয়াজ কানে এল । স্টেশনটা এবার দেখা যাচ্ছে । আর একটু পরেই ট্রেন টা ছেড়ে দেবে । তাড়াতাড়ি পৌছাতে হবে । হাতের বালতি টা আর একটু চেপে ধরল । তার মধ্যে কিছু লাল কালো লজেন্স । ট্রেনটা ধরতে হবে !! অমল জোরে হাঁটা দিল ।
লজেন্স নেবেন লজেন্স !! টক-ঝাল-মিষ্টি লজেন্স !!

Advertisements